গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহঃ পার্ট-৪
গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহঃ পার্ট-৪
১। জিঙ্ক উচ্চ তাপমাত্রায় পানির সাথে বিক্রিয়া করে জিঙ্ক অক্সাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ Zn + H2O = ZnO + H2
২। কপার অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কপার অক্সাইড উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ 2Cu + O2 = 2CuO
৩। মার্কারি অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মার্কারি অক্সাইড উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ 2Hg + O2 = 2HgO
৪। কপার (I) ক্লোরাইড অ্যামোনিয়ার সাথে বিক্রিয়া করে জটিল যৌগ গঠন করে। বিক্রিয়াঃ CuCl + 4NH3 = 2[Cu(NH3)2]Cl
৫। 4500 সে. তাপমাত্রায় লেডকে উত্তপ্ত করলে লাল বর্ণের লেড অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা রেড লেড নামে পরিচিত। বিক্রিয়াঃ 3Pb + 2O2 = Pb3O4
৬। আয়রনকে মধ্যম গাঢ় নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত করলে আয়রন (III) নাইট্রেট উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ Fe + 4HNO3 = Fe(NO3)2 + 2H2O + NO
৭। গাঢ় নাইট্রিক এসিডের সাথে লেড বিক্রিয়া করে লেড নাইট্রেট, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ Pb + 4HNO3 = Pb(NO3)2 + 2NO2 + 2H2O
৮। সোডিয়াম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে জ্বলে ওঠে এবং সোডিয়াম পার অক্সাইড উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ 2Na + O2 = Na2O2
৯। সোডিয়াম লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ 2Na + 2HCl = 2NaCl + H2
১০। আয়রন (III) অক্সাইড লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে আয়রন (III) ক্লোরাইড তৈরি করে। বিক্রিয়াঃ Fe2O3 + 6HCl = FeCl3 + 3H2O
১১। লেড অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে লেড অক্সাইড উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ 2Pb + O2 = 2PbO
১২। নাইট্রিক এসিড সালফারের সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক এসিড, পানি ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ S + 6HNO3 = H2SO4 + 2H2O + 6NO2
১৩। ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে তাপ দিলে ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ CaCO3 → CaO + CO2
১৪। অ্যামোনিয়াম সালফেটের সাথে ক্যালসিয়াম কার্বনেট বা চুনাপাথর এর বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ (NH4)2SO4 + CaCO3 = (NH4)2CO3 + CaSO4
১৫। সোডিয়াম ক্লোরাইড, অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের দ্রবণে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ NaCl + NH4OH + CO2 → NaHCO3 + NH4Cl
১৬। ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড কার্বন ডাই-অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের অধঃক্ষেপ উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ Ca(OH)2 + CO2 = CaCO3 + H2O
১৭। ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেটকে তাপ দিলে ক্যালসিয়াম কার্বনেট, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ Ca(HCO3)2 = CaCO3 + H2O + CO2
১৮। ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ CaCO3 + H2O + CO2 = Ca(HCO3)2
১৯। অধিক পরিমাণে ডাইক্রোমেটের উপস্থিতিতে ইথান্যাল ডিহাইড বা অ্যাসিটাল ডিহাইড জারিত হয়ে ইথানয়িক বা অ্যাসিটিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। বিক্রিয়াঃ CH3CHO → CH3COOH
২০। কক্ষ তাপমাত্রায় ইথাইন সহজে ব্রোমিনের সাথে যুক্ত হয়ে টেট্রাব্রোমোইথেন তৈরি করে। ফলে ব্রোমিনের লালবর্ণ দ্রবীভূত হয় । বিক্রিয়াঃ CH ≡ CH + 2Br2 → CHBr2 – CHBr2
২১। প্রোপাইনকে অক্সিজেনে দহন করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ CH3C ≡ CH + 4O2 → 3CO2 + 2H2O
২২। ইথানল লঘু সালফিউরিক এসিড ও পটাসিয়াম ডাই-ক্রোমেটের দ্রবণের সাথে জারণ ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল বা অ্যাসিটালডিহাইড উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ CH3CH2OH →CH3CHO + H2O
২৩। ইথানয়িক এসিড ফসফরাস (v) ক্লোরাইডের সাথে তীব্রভাবে বিক্রিয়া করে অ্যাসিটাইল ক্লোরাইড, হাইড্রোজেন ক্লোরাইড ও ফসফরাস অক্সি-ক্লোরাইড উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ CH3COOH + PCl5 → CH3COCl + HCl + POCl3
২৪। সাধারণ তাপমাত্রায় ক্যালসিয়াম কার্বোইডের উপর পানির ফোটা ফেলা হলে ইথাইন তৈরি হয়। বিক্রিয়াঃ CaC2 + 2H2O = Ca(OH)2 + C2H2
২৫। ইথাইল আয়োডাইডের সাথে জলীয় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের দ্রবণ বিক্রিয়া করে ইথাইল অ্যালকোহল উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ CH3CH2I + NaOH → CH3CH2OH + NaI
২৬। কক্ষ তাপমাত্রায় ইথিন এক অণু ক্লোরিনের সাথে যুক্ত হয়ে একটি যৌগ ১, ২-ডাই ক্লোরোইথেন তৈরি করে। বিক্রিয়াঃ H2C ≡ CH2 + Cl2 → CH2Cl – CH2Cl
২৭। ইথাইল ব্রোমাইডকে ইথারে দ্রবীভূত করে সোডিয়ামের সাথে উত্তপ্ত করা হলে n-বিউটেন উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ 2CH3CH2Br + 2Na → CH3 – CH2 – CH2 – CH3 + 2NaBr
২৮। বিক্ষিপ্ত সূর্যালোকে আয়রন গুঁড়া প্রভাবকের উপস্থিতিতে মিথেন হতে হাইড্রোজেন পরমাণু ক্লোরিন পরমাণু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে মিথাইল ক্লোরাইড ও হাইড্রোজেন ক্লোরাইড উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ CH4 + Cl2 = CH3Cl + HCl
২৯। কক্ষ তাপমাত্রায় ইথাইন সহজেই হাইড্রোজেন আয়োডাইডের সাথে সংযুক্ত হয়ে ১,১-ডাই-আয়োডোমিথেন উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ CH ≡ CH + 2HI → H3C – CHI2
৩০। ইথাইল ব্রোমাইডকে অ্যালকোহলীয় কস্টিক পটাশের (KOH) দ্রবণের সাথে উত্তপ্ত করা হলে অ্যালকিন অর্থাৎ ইথিন উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ CH3CH2Br + KOH(alc) → KBr(alc) + CH2 = CH2 + H2O
৩১। ইথানলের সাথে ফসফরাস (v) ক্লোরাইডের বিক্রিয়ায়া ইথাইল ক্লোরাইড উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ C2H5OH + PCl5 = C2H5Cl + POCl3 + HCl
৩২। উচ্চ তাপমাত্রায় ইথিন পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট এর জলীয় দ্রবণের সাথে বিক্রিয়া করে ইথেন ১,২-ডাইওল বা ইথিলিন গ্লাইকল তৈরি করে। বিক্রিয়াঃ H2C = CH2 + H2O + [O] → HO – CH2 – CH2 – OH
৩৩। গাঢ় সালফিউরিক এসিডের উপস্থিতিতে ইথানল ও ইথানয়িক এসিডের বিক্রিয়ায় ইথাইল ইথানয়েট বা ইথাইল অ্যাসিটেট উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ CH3COOH + C2H5OH → CH3COOC2H5 + H2O
৩৪। ইথেনকে বায়ু বা অক্সিজেনে জ্বালালে উজ্জ্বল শিখাসহ জ্বলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াঃ 2C2H6 + 7O2 → 4CO2 + 6H2O
৩৫। অ্যামোনিয়া যুক্ত সিলভার নাইট্রেট দ্রবণের মধ্যদিয়ে ইথাইন গ্যাস প্রবাহিত করলে সাদা বর্ণের সিলভার অ্যাসিটিলাইড এর অধঃক্ষেপ সৃষ্টি হয়। বিক্রিয়াঃ 2Ag(NO3) + 2NH3 + C2H2 = Ag2C2 + 2NH4NO3
৩৬। ফুটন্ত ইথানয়িক এসিডের মধ্য দিয়ে ক্লোরিন গ্যাস প্রবাহিত করলে মনোক্লোরো ইথানয়িক এসিড উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ Cl2 + CH3COOH → CH2ClCOOH + HCl
৩৭। অ্যামোনিয়া যুক্ত কপার (I) ক্লোরাইডের দ্রবণের মধ্য দিয়ে ইথাইন গ্যাসকে প্রবাহিত করলে তৎক্ষণাৎ কপার অ্যাসিটিলাইডের লালচে বাদামি অধঃক্ষেপ সৃষ্টি হয়। বিক্রিয়াঃ CuCl + 2NH3 + C2H2 → Cu2C2 + 2NH4Cl
৩৮। সোডিয়াম ইথানয়েটকে সোডালাইমের সাথে উত্তপ্ত করলে মিথেন ও সোডিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াঃ CH3COONa + NaOH → CH4 + Na2CO3
গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহঃ পার্ট-১