Header Ads

কোষ ও কোষের প্রকারভেদ

কোষ ও কোষের প্রকারভেদ 

উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র

প্রশ্নঃ ১। কোষ কাকে বলে বা কোষ কি?

২। কোষের প্রকারভেদ বা শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর।

ইংরেজি ভাষায় Cell (ল্যাটিন Cellula অর্থ ছোট ঘর) (কুঠুরী, প্রকোষ্ঠ, মৌমাছির ঘর) শব্দটি এসেছে গ্রীক kytos - ফাঁকা আধার বা স্থান থেকে। বৃটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক (Robert Hooke) ১৬৬৫ সালে Cell শব্দটিকে বিশেষ অর্থে সর্বপ্রথম ব্যবহার ও প্রয়োগ করেন যার বাংলা পরিভাষা কোষ। Cell বা কোষ হলো জীবদেহের গঠনগত ও কার্যগত একক। এককোষী বা অকোষী জীবদেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত। কিন্তু বহুকোষী জীবদেহ অসংখ্য কোষের সমষ্টি। এ অসংখ্য কোষ সমষ্টির মিলিত প্রয়াসেই বহুকোষী জীবদেহের সমস্ত জৈবনিক কার্যাবলি সম্পন্ন হয়ে থাকে। জীবনের উৎপত্তি, অবস্থান, জৈবিক কার্যাবলি, বিবর্তন সবই কোষ ভিত্তিক।

দৈহিক গঠন, জীবনযাত্রা প্রণালী ও শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপের দিক থেকে বিবেচনা করে কোষের একাধিক সংজ্ঞা প্রচলিত আছে।
(i) Swanson I Webster (১৯৭৮) এর মতে জীবনের ভৌত সত্তার মৌলিক একককে কোষ বলে।
(ii) De Robertis (১৯৭৮) এর মতে জীবদেহের গাঠনিক ও জৈবনিক কার্যনির্বাহী একককে কোষ বলে।
(ii) ১৯৮৩ সালে লোয়ী এবং সিকেভিজ (Loewy & Sickevitz) নামক দুজন কোষবিজ্ঞানীর মতে অর্ধ প্রবেশ্য পর্দা দ্বারা আবৃত এবং অন্য জৈবতন্ত্রবিহীন মাধ্যমে স্বপুনরুৎপাদনে সক্ষম জীবক্রিয়ার এককের নাম কোষ।
(iv) আধুনিক কালের ধারণা অনুযায়ী, “প্লাজমা পর্দাবেষ্টিত এবং নিউক্লিয়াস নিয়ন্ত্রিত একখণ্ড সাইটোপ্লাজমকে কোষ বলে”।
কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক যা স্বনির্ভর ও আত্মপ্রজননশীল, প্রভেদভেদ্য পর্দা দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় প্রোটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত এবং পূর্বতন কোষ থেকে সৃষ্ট।

কোষবিদ্যাঃ জীববিজ্ঞানের যে শাখায় কোষের পদার্থিক বা ভৌত ও রাসায়নিক গঠন, জৈবিক কার্যাবলি, বিকাশ, পরিস্ফুরণ, কোষ অঙ্গাণুর গঠন এবং বিভাজন দ্বারা পূর্বতন কোষ থেকে নতুন কোষের উৎপত্তি প্রভৃতি অর্থাৎ এক কথায়, কোষ সম্পর্কে গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হয় তাকে কোষবিদ্যা বা Cytology বলা হয়।

কোষের প্রকারভেদ (Types of Cell): ১৯৪৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ফট (Fott) কোষের নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে কোষকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন, যথাঃ (i) আদিকোষ (Prokaryotic Cell) এবং (ii) প্রকৃত কোষ (Eukaryotic Cell)।

(i) আদিকোষ (Prokaryotic Cell): যে সব কোষে সুসংগঠিত ও সুনির্দিষ্ট নিউক্লিয়াস নেই সেই কোষকে আদি কোষ বলা হয়। আদি কোষের সাইটোপ্লাজমে রাইবোসোম ব্যতীত অন্য কোন ক্ষুদ্রাঙ্গ (যথা- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বডি, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি) থাকে না। সাধারণত ফিশান (Fission) অথবা অ্যামাইটোটিক পদ্ধতিতে কোষ বিভাজন সম্পন্ন হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল এর কোষ আদিকোষের প্রকৃষ্ঠ উদাহরণ।

(ii) প্রকৃত কোষ (Eukaryotic Cell): Eukaryotic শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে যার অর্থ eu = good; karyon = nucleus অর্থাৎ ভাল নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ। জড় কোষপ্রাচীর বিশিষ্ট যে সব সুগঠিত ও সুনির্দিষ্ট নিউক্লিয়াস বিদ্যমান সেই কোষকে প্রকৃত কোষ বলা হয়।

শারীরবৃত্তীয় কাজের তারতম্যের উপর ভিত্তি করে একটি বহুকোষী জীবের কোষগুলোকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১। দেহকোষ (Somatic Cell): বহুকোষী যেসব কোষ শুধু জীবদেহ গঠন করে, জনন কাজে অংশগ্রহণ করে না, সেগুলোকে দেহকোষ বলে। মাইটোসিস বিভাজন প্রক্রিয়ায় পুরনো দেহকোষ থেকে নতুন দেহকোষ সৃষ্টি হয়।
২। জননকোষ বা গ্যামিট (Reproductive Cell or Gamete): বহুকোষী জীবের যেসব কোষ শুধু জনন কাজে অংশগ্রহণ করে, সেগুলোকে জননকোষ বলে। জননকোষ দুরকমের, যথা- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু। এরা মিয়োসিস বিভাজন প্রক্রিয়ায় যথাক্রমে শুক্রাণু মাতৃকোষ ও ডিম্বাণু মাতৃকোষ থেকে সৃষ্টি হয়।

কোষর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত ক্রোমোসোমের সংখ্যার ভিত্তিতে কোষ প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১। ডিপ্লয়েড কোষ (Diploid Cell): এসব কোষের নিউক্লিয়াসে দু’সেট (2n) ক্রোমোসোম থাকে। প্রতিসেট ক্রোমোসোমকে একত্রে জিনোম বলে। সুতরাং, ডিপ্লয়েড কোষে দু’সেট জিনোম থাকে। সব উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ কোষ ডিপ্লয়েড (2n) অর্থাৎ দুসেট জিনোমবিশিষ্ট।
২। হ্যাপ্লয়েড কোষ (Haploid Cell): যৌন প্রজননকারী প্রাণিদের দেহে পুরুষ ও স্ত্রী জনন কোষ তৈরি হয়। এসব কোষ হ্যাপ্লয়েড (n) ক্রোমোসোমবিশিষ্ট একক এবং চলনক্ষম (motile), হ্যাপ্লয়েড পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামিট অর্থাৎ শুক্রাণু (n) এবং ডিম্বাণুর (n) নিষেকের ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট এবং ভ্রূণানু (2n) গঠিত হয়ে শিশুজীবের জীবনের সূচনা হয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.